আহমেদ রুবেলকে ফুলেল শ্রদ্ধায় শেষ বিদায়, দাফন গাজীপুরে

ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় অভিনেতা আহমেদ রুবেলকে মঞ্চ, চলচ্চিত্র ও টিভি নাটকের নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলীসহ সর্বস্তরের মানুষ শেষবিদায় জানালেন।

 বুধবার বিকেলে ঢাকার বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে ‘পেয়ারার সুবাস’ সিনেমার প্রিমিয়ার শোতে অংশ নিতে এসে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আহমেদ রুবেল। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।

শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে বৃহস্পতিবার  সকাল সাড়ে ১০টায় আহমেদ রুবেলের মরদেহ জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা প্লাজায় নেওয়া হয়। ঢাকা থিয়েটারের উদ্যোগে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাঁকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।

নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, ‘আমার “গেরিলা” সিনেমায় শহীদ আলতাফ মাহমুদের চরিত্রে অভিনয় করেছিল রুবেল। দারুণ অভিনয় করেছিল রুবেল। সেই সময়ের স্মৃতিগুলো আজও মনে ভাসে।’

মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ও আমার খুব স্নেহভাজন ছিল। আমার রচিত “জিন্দাবাহার” ধারাবাহিকে মুখ্য চরিত্র করেছিল। ও আমার খুব অনুগত ছিল।’

রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘ওর মতো প্রতিভাবান অভিনেতা আমাদের দেশে খুব কম আছে। তার অবয়ব ও কণ্ঠস্বর এখনো কানে বাজে।’

সংসদ সদস্য ও অভিনেতা ফেরদৌস বলেন, ‘অসময়ে চলে গেলেন রুবেল ভাই। আমাদের সবাইকেই চলে যেতে হবে, তবে অসময়ে যাওয়াটা মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর সরলতা, অসাধারণ অভিনয়ক্ষমতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।’

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), নির্মাতা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘“পেয়ারা সুবাস” সিনেমাটায় অদ্ভুত অভিনয় করেছেন। চরিত্রটা দেবদূতের মতো চরিত্র। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সিনেমাটি তাঁর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হবে।’

শিল্পকলা একাডেমিতে আহমেদ রুবেলের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছে ঢাকা থিয়েটার, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপকমিটি, গ্রাম বাংলা থিয়েটার, অভিনয় শিল্পী সংঘ, চরকি, আলফা আইসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

শিল্পকলা একাডেমিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রুবেলের মরদেহ চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ গাজীপুর শহরের উত্তর ছায়াবীথিতে নেওয়া হয়। জানা যায়  আহমেদ রুবেলের মরদেহ বাড়িতে আসার পর থেকে বন্ধুবান্ধব, স্বজন, প্রতিবেশী ও ভক্তরা ভিড় করছেন।

এসেছেন অনেক গুণী শিল্পীও। তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। কেউ কেউ তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করেছেন। আসরের পর রাজবাড়ি মাঠে তাঁর জানাজা শেষে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। তিনি গাজীপুরের রাণী বিলাসমনি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। তাঁর বাবা অধ্যাপক আয়েশ উদ্দিন গাজীপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ সময় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *