জনজীবন বিপর্যস্থ দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে : বাংলাদেশ ন্যাপ 

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক উর্দ্ধগতিতে জনজীবন বিপর্যস্থ করে তুলছে বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, “চাল-ডাল, আটা, চিনি, ভোজ্য তেল, শিশু খাদ্য ও শাকসব্জির মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ আজ দিশাহারা। নিয়ন্ত্রণহীন সিন্ডিকেট গোষ্ঠী। নিয়ন্ত্রনহীন বাজার মূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন-যাপন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।” 

বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তারা এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, “নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রন হচ্ছে ‘মুনাফাশিকারি’ লুটেরাদের হাতে। পণ্য পরিবহনে দুর্নীতি, হয়রানি ও চাঁদাবাজি হচ্ছে। বাজারে অসৎ ব্যবসায়ী ও মোনাফাখোরদের একচেটিয়া প্রভাব কমানো না গেলে দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া নিয়ন্ত্রণে আসবে না।”

বাংলাদেশ ন্যাপ মনে করে, ”নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে করতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য, বিশেষ করে  দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের জন্য স্থায়ী রেশন ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এই দরিদ্র মানুষদের জন্য রেশনে চাল, গম, তেল, ডাল, চিনিসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যক পণ্য সাপ্তাহিক ভিত্তিতে দেবার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে টিসিবির কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে অত্যাবশ্যক পণ্যসামগ্রীর আমদানি, মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে হবে।”

তারা আরো বলেন, “নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে একদল অসৎ ব্যাবসায়ী ও মুনাফাখোর। বয়লার মুরগি, চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্যে জনমনে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এভাবে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির ফলে স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষের দুঃখ দুর্দশার কুল-কিনারা থাকবে না।”

নেতৃদ্বয় সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, “বিএডিসির কার্যক্রমকে প্রসারিত করে সারা দেশে সার, বীজ, কীটনাশক, বিদ্যুৎ, সেচ যন্ত্রপাতিসহ কৃষি উপকরণ ন্যায্যমূল্যে এবং কৃষকের কাছে সরাসরি সরবরাহের ব্যবস্থা করার পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। এতে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় অনকেটাই কমে আসবে। এ ছাড়াও পণ্য পরিবহনে দুর্নীতি, হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং একই সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন সাধনসহ হাটবাজারে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অত্যাচার বন্ধে দ্রæত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।”

তারা বলেন, “এমনিতেই অর্থনৈতিকভাবে দেশের মানুষ বিপর্যস্থ। তার উপর সিন্ডিকেট গোষ্ঠী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের আস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণকে ভয়াবহ সংকটের মসাঝে ঠেলে দিচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কষ্ট দিন দিন বৃদ্ধি করছে। তাই কঠোর হস্তে কালোবাজারিদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *