নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী অপরাধের দায়ে ৫ জনের সাজা

মনির হোসেন : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী অপরাধের দায়ে ৫ জনকে জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সাজা প্রদান করেছেন।

রবিবার (৭জানুয়ারী) ভোট গ্রহনের দিন নারায়ণগঞ্জের ১১ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৫টি নির্বাচনী এলাকায় সংক্ষিপ্ত আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় তাদের দায়িত্ব পালন কালে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর বিভিন্ন ধারায় এই সাজা প্রদান করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামসাদ বেগম নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে ভোট কেনার দায়ে মোঃ সবুজ ও মোঃ নাঈম কে ২বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী (কেটলি প্রতীক) শাহজাহান ভূঁইয়ার কর্মী হিসেবে পরিচিত। 

সংক্ষিপ্ত বিচারিক আদালতের অপর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নূর মহসীন নির্বাচনী অপরাধ মামলা নং ০১/২৪ (নারায়ণগঞ্জ-০২ আড়াইহাজার) জাহাঙ্গীর শিকদার (ঝাটন) কে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৯৭২ এর ৭৮(১ক) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ২ বছর সশ্রম কারাদন্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড ব্যর্থতায় আরো ১৫ দিন কারাদন্ড প্রদান করেন এবং অন্যান্য সন্ধিগ্ধ আসামীদের নামে নিয়মিত মামলা রুজু করার নির্দেশ দেন। 

এদিকে, নারায়ণগঞ্জের-৪ আসনের ১৮৭নং দেলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের রুমে ঢুকে কিছু ব্যালট পেপারে সীল মারার সময় প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ ওমর ফারুক ০২ জন ব্যক্তি ইস্রাফিল ও মোঃ জামাল হোসেন-কে আটক করে ওসি ফতুল্লা থানাকে খবর দিলে ওসি ফতুল্লা থানা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পাঠিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। ওসি ফতুল্লা থানা নির্বাচনী দায়িত্বে সংক্ষিপ্ত বিচারিক আদালতের প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বীথিকে জানান। তিনি তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে এসে প্রিজাইডিং অফিসারের লিখিত অভিযোগ ও আসামীদের দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে আটক করে প্রত্যেককে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৯৭২ এর ৭৪(৪) অনুচ্ছেদে দোষী সাব্যস্ত করে ২বছর সশ্রম কারাদন্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড ব্যর্থতায় আরো ৩ মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আসাদুজ্জামান।

অপরদিকে,নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ বদিউজ্জামানকে নির্বাচনী এলাকা -৪ সিদ্ধিরগঞ্জে একজন মানবিক ম্যাজিষ্ট্রেট হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। তিনি সকাল থেকে ভোট গ্রহন শেষ হওয়া পর্যন্ত এক কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে নির্বাচনী অপরাধমুক্ত ভোট গ্রহন সম্পন্ন করতে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এসবের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে, প্রতিবন্ধী ও সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে সাহায্য করা,ভোটার বাদে একসাথে জড়ো হয়ে থাকা লোকজন কে তাড়িয়ে দেয়া,এক প্রার্থীর একাধিক এজেন্ট থাকলে তাকে বের করে দেয়া,বয়স্ক ভোটারদের ভোট দিতে সাহায্য করা,জাল ভোট দিলে শাস্তি হবে তা সকলকে স্মরন করিয়ে দেয়া, ভোট কেন্দ্রের প্রত্যেক প্রিজাইডিং অফিসারকে তার নিজের ফোন নাম্বার দেয়া যাতে কোন সমস্যা হলে জানাতে পারে এবং র্যাব,পুলিশ ও এডমিনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা। তাছাড়া প্রিজাইডিং অফিসার যেন কোন হুমকিতে ভীত হয়ে নতি স্বীকার না করতে পারে সে জন্য কয়েকটি কেন্দ্রে বসে থেকে তাদের কে প্রটেকশনও দিয়েছেন তিনি। ফলে অধিকাংশ ভোটার ও উৎসুক জনতা তার কর্মকান্ডে বেশ ভূূ’য়সি প্রশংসা করেছেন এবং তাকে একজন মানবিক ম্যাজিষ্ট্রেট হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *