নারায়ণগঞ্জ -৪ আসনে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বিএনপির গিয়াসউদ্দিন : নির্বাচন কর্মকর্তা

নারায়ণগঞ্জ–৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে নির্বাচনের জন্য বিএনপি নেতা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং তাঁর ছেলে মোহাম্মদ কায়সার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।

তাঁর দাবি, রোববার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিনিধির মাধ্যমে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তাঁরা। গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তবে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন গিয়াস উদ্দিন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজী মো. ইস্তাফিজুল হক আকন্দ বলেন, গিয়াস উদ্দিন ও তাঁর ছেলের পক্ষে প্রতিনিধি এসে স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়নপত্র নিয়ে গেছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে শামীম ওসমান ও স্বতন্ত্র থেকে তিনজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এ নিয়ে মোট চারজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা অপরজন হলেন রাশেদুল ইসলাম।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়ে গিয়াস উদ্দিন ফেসবুকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করে দাবি করেছেন, তিনি স্বতন্ত্র থেকে কোনো মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। সরকারি দলের কতিপয় গোষ্ঠী যোগসাজশ করে তা ছড়াচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একদফা আন্দোলনে আছি। সরকারের পদত্যাগ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে যাবে না।’

গিয়াস উদ্দিনের ফেসবুক পোস্টটি নজরে আনা হলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ইস্তাফিজুল হক আকন্দ বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও ভোটার তালিকা সিডির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে আমাদের এখান থেকে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন তাঁর (গিয়াস উদ্দিনের) প্রতিনিধি। যিনি মনোনয়নপত্র নিয়েছেন, তাঁর নাম–ঠিকানা আমাদের কাছে রয়েছে।’

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন মাহমুদ বলেন, দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। গিয়াস উদ্দিন আদৌ স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়নত্র নিয়েছেন কি না, সেটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তাঁর পক্ষে কেউ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মনোনয়নপত্র তুলে নিয়েছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি গিয়াস উদ্দিন দলের নির্দেশনার বাইরে মনোনয়নপত্র তুলে থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্র।

গিয়াস উদ্দিন একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচন করেন তিনি। আওয়ামী লীগ ছাড়ার সময় গিয়াস উদ্দিন কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহসভাপতি ছিলেন। ওই নির্বাচনে গিয়াস উদ্দিন শামীম ওসমানকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নারায়ণগঞ্জে নানা কারণে এই দুই নেতা আলোচিত ও সমালোচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *