উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
তৌরিদ হাসান :
বৃহত্তর নোয়াখালীর অন্তর্গত লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত পরিবার 'ভাদুর মিঞা বাড়ি'-র পরিবারবর্গ নিয়ে রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির ইম্পেরিয়াল ইনফিনিটি লাউঞ্জে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ আড্ডা ও পারিবারিক মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে। গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ) আয়োজিত এই মিলনমেলায় ঢাকায় বসবাসকারী মিঞা বাড়ির প্রায় আড়াইশ (২৫০) সদস্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে ছোট-বড় সবার উপস্থিতিতে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের ব্যস্ততা ভুলে আপনজনদের সান্নিধ্যে কাটানো এই সময়টি সবার মনে এক অন্যরকম অনুভূতির জন্ম দেয়। সুস্বাদু বুফে ডিনার এবং পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি এক অভূতপূর্ব পারিবারিক উৎসবে রূপ নেয়।
শিক্ষা ও ঐতিহ্যে শতাব্দীপ্রাচীন গৌরব ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই পরিবারের পূর্বপুরুষরা সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই বৃহত্তর নোয়াখালীর শিক্ষা ব্যবস্থায় অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। যার ইতিবাচক প্রভাব এই অঞ্চলে আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং শিক্ষার হারে বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকা থেকে এই অঞ্চলকে এগিয়ে রেখেছে। কথিত আছে, ব্রিটিশ আমলেই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক পদের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসনে আসীন ছিলেন এই পরিবারেরই কৃতি সন্তান। নোয়াখালী বিভক্ত হয়ে লক্ষ্মীপুর গঠিত হওয়ার পর এবং পরবর্তীতে রামগঞ্জ উপজেলা গঠিত হলেও, এই অঞ্চলের শিক্ষাদীক্ষায় মিঞা বাড়ির অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। চৌমুহানী এস এ ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ টি. হোসাইন (তোফাজ্জল হোসাইন)-এর মতো ব্যক্তিত্ব এই পরিবারের ঐতিহ্যকেই বহন করে।
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন ও উপাধির ইতিহাসবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে (১৯০০ সালের দিকে) এই বঙ্গের বিখ্যাত সুফী ও আলেম মৌলভী আনোয়ার উল্লাহ ছিলেন এমন একজন প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব, যাকে স্বয়ং ব্রিটিশরাও গভীর শ্রদ্ধা করতেন। এছাড়া ১৯৪০-এর দশকে নোয়াখালী জেলা পরিষদের সদস্য থাকাকালীন এ বাড়ির গর্বিত সদস্য এরশাদ হোসেন ব্রিটিশদের অন্যায় মামলা থেকে ভাদুর এলাকার সাধারণ জনগণকে বাঁচাতে নিজের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেন। তাঁর এই সাহসিকতা ও ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশরা তাঁকে ‘বড় মিঞা’ উপাধিতে ভূষিত করেন। সেই থেকেই এই পরিবারের উত্তরসূরিরা ‘মিঞা’ নামেই পরিচিত লাভ করেন।রেন। ১৯৪৭ দেশভাগের আন্দোলনের সময় মহাত্ম গান্ধী এই বাড়িতে এসেছিলেন বড়ে মিয়ার সাথে দেখা করার জন্য।
হালের আমলেও ভাদুর মিঞা বাড়ির সন্তানেরা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা সমুন্নত রেখেছেন। বিগত দুই দশকে এ পরিবারের কৃতি সন্তান মরহুম নাজিম উদ্দীন আহমেদ দুইবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এলাকার উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। বর্তমান প্রজন্মেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলো ছড়াচ্ছেন এই পরিবারের সন্তানেরা—আমেরিকা সরকারের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ডেলিগেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, বিশ্বখ্যাত টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটে সুনামের সাথে চাকরি করছেন জোবায়ের আহমেদ এবং মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায় (NASA) গবেষক হিসেবে কর্মরত আছেন মোস্তফা কামাল।
আয়োজকরা জানান, প্রবাস বা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মেলবন্ধন সুদৃঢ় করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পূর্বপুরুষদের এই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।