উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। দেশের শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা—শিক্ষার সকল স্তরেই শিক্ষকই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। শিক্ষার্থীদের নীতি-নৈতিকতা, মানবিক গুণাবলি সহ উন্নত জীবন গঠনে শিক্ষক সদা কাজ করেন।শিক্ষকের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করা উচিত। কারণ একজন চিকিৎসক চিকিৎসা দেন, একজন প্রকৌশলী স্থাপত্য নির্মাণ করেন, আর একজন শিক্ষক চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ তৈরি করেন। অর্থাৎ সমাজের যেকোনো পেশার মানুষের পেছনে কোনো না কোনো শিক্ষকের ভূমিকা রয়েছে।একজন শিক্ষক যখন প্রথমে শিশুকে অক্ষর শেখান, তিনি শুধু অক্ষরই শেখান না; তিনি তার সামনে পৃথিবীর জ্ঞানের দরজাটা উন্মুক্ত করে দেন। একজন ভালো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়ে তাকে উন্নত জীবনে পদার্পণের কাজটি করে দিতে পারেন। তাই শিক্ষককে সম্মান করা মানে জ্ঞান, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সম্মান করা।শিক্ষক দিবসে শিক্ষকের হাতে ফুল তুলে দেওয়া, শুভেচ্ছা জানানো কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা করা নিঃসন্দেহে আনন্দের। তবে শিক্ষকের প্রকৃত সম্মান শুধু এসব আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।শিক্ষকের প্রকৃত সম্মান নিশ্চিত করতে হলে—১. কর্মক্ষেত্রে শিক্ষকের মর্যাদা বজায় রাখতে হবে;২. শিক্ষকের মতামত ও পেশাগত স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিতে হবে;৩. নিরাপদ ও সুন্দর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে;৪. দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে;৫. প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ বাড়াতে হবে;৬. শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত পরিচয়কে সম্মান করতে হবে;৭. ন্যায্য পদোন্নতির ব্যবস্থা করা।একটি জাতি কতটুকু উন্নত, তা বোঝার একটি উপায় হচ্ছে সমাজে শিক্ষকের মান-মর্যাদা কতটুকু—তার ওপর। যে সমাজ শিক্ষকের জ্ঞান, শ্রম ও মর্যাদার গুরুত্ব দেয়, সে সমাজই ন্যায়ভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।তাই শিক্ষক দিবসে আমাদের সকলের অঙ্গীকার হোক—শিক্ষককে শুধুমাত্র একদিন সম্মান নয়, সারা বছর তাঁর মর্যাদা ও অধিকারকে সম্মান করা। শিক্ষকের মুখে হাসি থাকলে শ্রেণিকক্ষে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়; আর শ্রেণিকক্ষের ইতিবাচক পরিবেশ থেকেই গড়ে ওঠে আগামী দিনের আলোকিত প্রজন্ম।শিক্ষককে সম্মান দিন, শিক্ষকের অধিকার নিশ্চিত করুন—কারণ শিক্ষকের হাত ধরেই গড়ে ওঠে একটি জাতির ভবিষ্যৎ।লেখকআমিনুল ইসলামশ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক, সোনারগাঁ উপজেলা (২০২৬)সহকারী শিক্ষক১০৬ নং হামছাদী ধনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ।