উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)র গ্রাহক হয়রানি, ঘুষ বানিজ্যসহ নানা অনিয়ম এবং দলীয় দাপট দেখানোর অভিযোগ উঠেছে ডিপিডিসির কয়েকজন কর্মকর্তা, মিটার রিডার ও লাইনম্যানের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, দীর্ঘ সময় থেকে গ্রাহক হয়রানি, ঘুষ বানিজ্য এবং নতুন মিটার ও বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে মাসের পর মাস ঘুরে বেড়াচ্ছে সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দারা। হীরাঝিল ৩নং গলিতে জিয়া উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির ১০ তলা বহুতল ভবনের এসটি সংযোগের ফাইল পাস করাতে কয়েক লক্ষ টাকা দালালের মাধ্যমে দিতে হয়েছে।
বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে এসটি বিদ্যুৎ সংযোগ না দিয়ে এলটি সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ ডিপিডিসির বিরুদ্ধে।
সিদ্ধিরগঞ্জের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, আমার নিজের বাড়ীর জন্য একটি মিটার নামানোর জন্য প্রায় এক মাস যাবৎ ডিপিডিসির পিছন পিছন ঘুরছি। এখনো পর্যন্ত আমার মিটারটি অনুমোদন না দিয়ে বিভিন্ন হয়রানির পর অনুমোদন করা হয়েছে। শুধু তাই নয় এসটি সংযোগের ফাইল পাসের কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে। আমরা গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছি। এসব ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ উঠছে কয়েকজন উপ-সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তারা দীর্ঘদিন সিদ্ধিরগঞ্জ ডিপিডিসিতে রয়েছেন। তাদের রয়েছে একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট। দালালদের মাধ্যমে এসব ঘুষের লেনদেন চলছে। এসব অনিয়ম দেখার যেন কেউ নেই। তারা প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
সচেতন মহলের দাবি, অসাধু কর্মকর্তারা বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে মোটা ঘুষ বানিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাই তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি । অন্যথায় সরকারের প্রতি মানুষের আস্হা ও বিশ্বাস হারাবে।
উক্ত বিষয়ে জানতে সিদ্ধিরগঞ্জ ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, আমি ফোনে এসব বিষয়ে কথা বলতে পারবো না। আপনি সরাসরি অফিসে আসেন তারপর শুনবো বলে জানান।
উক্ত বিষয়ে জানতে ডিপিডিসির এমডি হাবিবুন নাহার বলেন, যদি কোন ব্যক্তি ডিপিডিসির মাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন সে ব্যক্তি যদি লিখিত অভিযোগ দেন আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তারপরেও বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো বলে জানান।
বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সবুর হোসেন বলেন, কোন অন্যায় ছাড় দেওয়া হবেনা। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে জানান, মিটার রিডাররা বিল দেওয়ার সময় বাড়তি মিটার লাগবে কিনা জানতে চায় এবং যাদের দরকার লাগে তাদের সাথে মিটার প্রতি মিনিমাম দশ হাজার টাকা চুক্তির মাধ্যমে মিটারের ব্যবস্হা করে দেয়। বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলে অফিসে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে বাড়তি টাকা নেওয়া হয়। অন্যথায় সহজে মিটার পাওয়া যায় না তাই গ্রাহকরা একরকম বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা দিতে হয়। এভাবেই প্রতিমাসে মিটার রিডার এবং বিভিন্ন দালালদের মাধ্যমে সিদ্ধিরগঞ্জ ডিপিডিসির অসাধু কর্মকর্তারা অবৈধ টাকা গ্রহণ করে। সঠিক এবং সুষ্ঠু তদন্ত করলেই এসবের সত্যতা প্রমাণিত হবে।